রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কলকাতা বিমানবন্দরের ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০১:০১ পিএম

কলকাতা বিমানবন্দরের ১৩৬ বছরের পুরোনো মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় অবস্থিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো বাঁকড়া মসজিদকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে যে পথ দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করতেন, সম্প্রতি সেই প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বিমানবন্দরের একটি প্রবেশদ্বার ব্যবহার করে এতদিন মুসল্লিরা সহজেই মসজিদে যেতে পারতেন। তবে সম্প্রতি নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ওই পথ দিয়ে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মসজিদ কমিটির দাবি, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে, যা ধর্মীয় কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এক জনপ্রতিনিধি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী জানান, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবারও লিখিতভাবে আবেদন জানানো হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে এবং মুসল্লিদের নিয়মিত নামাজ আদায়ের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বিমানবন্দর সম্প্রসারণ ও নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে এনে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের মতে, বিমানবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা জোরদারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি হয়ে পড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে তিনি দাবি করেন, কারও ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির স্থানীয় এক আইনপ্রণেতা অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় অনুভূতিকে সামনে এনে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমস্যার সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করা জরুরি। কারণ একদিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি ধর্মীয় স্থানে মানুষের প্রবেশাধিকারও বিবেচনায় রাখতে হবে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো না হলেও নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!