রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কলকাতায় একের পর এক হোটেল বন্ধ, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০৩:৫২ পিএম

কলকাতায় একের পর এক হোটেল বন্ধ, বিপাকে বাংলাদেশি পর্যটকরা

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক হোটেলগুলোতে ব্যাপক অগ্নিনিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে অল্প সময়ের মধ্যেই শত শত হোটেল ও খাবারের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য যাওয়া মানুষজন।

সোমবার সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন হোটেল থেকে পর্যটকদের বের হয়ে যেতে দেখা যায়। অনেকে নতুন করে থাকার জায়গা খুঁজছেন, আবার কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আবাসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় ২২১টি হোটেল এবং ৯টি খাবারের দোকান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন, অগ্নিনিরাপত্তা পরিদর্শন, জরুরি সতর্কসংকেত কিংবা জরুরি সময়ে বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই, সেগুলোর বিরুদ্ধেই মূলত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরই নিউমার্কেট এলাকায় নিরাপত্তা যাচাইয়ে অভিযান জোরদার করা হয়। কলকাতা পুলিশ, পৌর কর্তৃপক্ষ, অগ্নিনির্বাপণ বিভাগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি কলকাতার হাজার হাজার হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে।

এদিকে হোটেল সংকটে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি হওয়ায় বন্ধ হয়ে যাওয়া হোটেলগুলোর প্রভাবও সেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি পড়েছে। নতুন থাকার জায়গা খুঁজতে গিয়ে অনেককে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও আগের তুলনায় ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নিউমার্কেটকেন্দ্রিক পরিবহন, খাবার, কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গেও বাংলাদেশি পর্যটকদের যাতায়াতের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে হোটেল বন্ধের কারণে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।

তবে প্রশাসনের বক্তব্য, পর্যটকদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অগ্নিনিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট হোটেল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!