প্রকাশিত: আগস্ট ২১, ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের তত্ত্বাবধানে সীমান্তপথে মরদেহগুলো বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এবং একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। প্রয়োজনীয় সরকারি ও সীমান্তসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন, শর্ণশীষ দত্ত, মো. আকরাম আলী এবং সাভারের আহামেদ বাবুর মরদেহ। অন্যদিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলের মধ্যেই মরদেহগুলো দেশে পাঠানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে মরদেহগুলো শনিবার (২২ আগস্ট) দেশে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে একই ঘটনায় নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে না এনে কলকাতাতেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অনুরোধ জানানো হয়েছে। রেবতী সরকারের ছেলে মায়ের মরদেহ কলকাতায় সৎকার করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
তবে কলকাতায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ওই হোটেলে আগুন লাগে। ভয়াবহ এ ঘটনায় মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতের নাগরিক ছিলেন। দুর্ঘটনার পর নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।



