রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

কলকাতার কয়েকটি মসজিদে জুমার আজান বন্ধ, আতঙ্কে মুসলিমরা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম

কলকাতার কয়েকটি মসজিদে জুমার আজান বন্ধ, আতঙ্কে মুসলিমরা

সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি মসজিদ থেকে মাইক সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শুক্রবারের জুমার নামাজের আগে আজান প্রচারেও। বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের মাইক বন্ধ থাকায় মুসল্লিদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় মুসল্লিদের অভিযোগ, কোনো কোনো মসজিদে পুলিশি তৎপরতায় মাইক খুলে নেওয়া হয়েছে। এ কারণে শুক্রবার অনেক স্থানে আজানের স্বাভাবিক ধ্বনি শোনা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শব্দবিধি প্রয়োগের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পার্ক সার্কাস এলাকার এক ইমাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মসজিদের মাইক সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তারা অসহায় বোধ করছেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলমানদের শান্ত থাকার এবং দেশের প্রতি নিজেদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

মসজিদের মাইক অপসারণের অভিযোগ ইতোমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টেও গড়িয়েছে। এ বিষয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত নির্দেশ ছাড়াই বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইক সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্য সরকারের আইনজীবী এ অভিযোগের বিরোধিতা করে জানিয়েছেন, পুলিশকে মাইক খুলে নেওয়ার এমন কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে কোন কোন এলাকার মসজিদ থেকে মাইক সরানো হয়েছে, তার নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছেন। পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানে শব্দবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ১৮ আগস্ট হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন কোনো আইন করে ধর্মীয় স্থানে মাইক বন্ধ করা হয়নি। বিদ্যমান আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের দাবি, মন্দির ও মসজিদ—উভয় ধরনের ধর্মীয় স্থান থেকেই শব্দবর্ধক যন্ত্র সরানো হয়েছে।

তবে মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকের অভিযোগ, বাস্তবে মসজিদগুলোতেই এর প্রভাব বেশি পড়ছে। ফলে ধর্মীয় আচার পালনে কোনো ধরনের বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায় থাকায় মসজিদের মাইক অপসারণের অভিযোগের সত্যতা, প্রশাসনিক নির্দেশনার ভিত্তি এবং শব্দবিধি প্রয়োগের ক্ষেত্রে সমতা—সবকিছুই পরবর্তী শুনানিতে আরও স্পষ্ট হতে পারে। এরই মধ্যে কলকাতা ও আশপাশের মুসলিমদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!