রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী সামরিক অবস্থান গড়ছে ইসরায়েল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

দক্ষিণ লেবাননে স্থায়ী সামরিক অবস্থান গড়ছে ইসরায়েল

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও সুসংহত করতে নতুন স্থায়ী সামরিক অবস্থান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে কয়েকটি স্থায়ী সামরিক পোস্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব অবস্থানের সুনির্দিষ্ট স্থান বা সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েল ভবিষ্যতে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগ এমন এক সময় সামনে এলো, যখন ইতালির রাজধানী রোমে লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, দক্ষিণ লেবাননের দুটি সংঘাতপ্রবণ এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে উভয় পক্ষ একটি সম্ভাব্য কাঠামো ও দিকনির্দেশনা নিয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

তবে নতুন সামরিক পোস্ট নির্মাণের খবর প্রকাশের পর সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা, অন্যদিকে নতুন স্থায়ী সামরিক অবস্থান গড়ে তোলার উদ্যোগ—এই দুই পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের ধারণা, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। নতুন এই পদক্ষেপ সেই মতবিরোধকে আরও স্পষ্ট করতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে লেবাননের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো না হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক মহলেরও দৃষ্টি এখন দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতির দিকে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন এই সামরিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংঘাত এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার পথই সবচেয়ে কার্যকর হতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!