রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন হামলায় পানি সরবরাহ বন্ধ ইরানে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০২:০৭ পিএম

মার্কিন হামলায় পানি সরবরাহ বন্ধ ইরানে

প্রতীকী ছবি

মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের মধ্যে ইরানের একটি পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ সুপেয় পানির সংকটে পড়েছেন। একই সঙ্গে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ইরানে টানা কয়েক দিন ধরে চলমান সামরিক অভিযানে বিভিন্ন স্থাপনার পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। এতে উপকূলীয় এলাকার বহু মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

ইরানের হরমোজগান প্রদেশের জাস্ক অঞ্চলের বুঞ্জি এলাকায় অবস্থিত একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্রের পাম্পিং ব্যবস্থায় হামলার ফলে পুরো অবকাঠামো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় সমুদ্রের পানি উত্তোলনকারী পাম্পিং কেন্দ্র এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত রূপান্তরক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ওই কেন্দ্রের মাধ্যমে নির্ভরশীল অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের সুপেয় পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে। তবে স্থায়ীভাবে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন হবে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে চলমান সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি পরিকল্পনা সক্রিয় থাকায় বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাদের দাবি, সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অপরদিকে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে বিমান হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, হামলা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং সংঘাত পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ওপর। খাদ্য, পানি, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!