প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রশাসন নতুন সামরিক পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইসরায়েলে অতিরিক্ত আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এতে অঞ্চলজুড়ে চলমান সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ইরানকে ঘিরে একাধিক সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির আশপাশে পরিচালিত অভিযানের পাশাপাশি আরও বিস্তৃত পরিসরে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সামরিক স্থাপনা এবং পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনার নাম রয়েছে।
এছাড়া একটি পাহাড়ি ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, সেখানে নতুন সামরিক সক্ষমতা গড়ে তোলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি, তবুও সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিভিন্ন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি ও ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ধারাবাহিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন বিদেশি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উড়োজাহাজ অবস্থান করছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আকাশে দীর্ঘ সময় অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অতিরিক্ত উড়োজাহাজ মোতায়েনের পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে এই সামরিক প্রস্তুতি ইসরায়েলের ভেতরেও আলোচনা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিপুল সংখ্যক সামরিক উড়োজাহাজ অবস্থানের কারণে বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট মহল নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যেকোনো নতুন সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা বাড়ছে।



