প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ০৯:০০ এএম
জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। একই ঘটনায় আরও একজন সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত চারজন সেনাসদস্য। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এ হামলা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তু করে ছোড়া হয় জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর স্থাপনার দিকে। হামলার পরপরই উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান শুরু করা হয়। নিখোঁজ সেনাকে খুঁজে বের করতে নিরাপত্তা বাহিনীর বিশেষ দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে হামলার ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ অনুসন্ধানে তদন্তও শুরু হয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার পর থেকে প্রাণহানির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি চার শতাধিক সেনা বিভিন্ন হামলায় আহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সংঘাতের বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বিদেশি সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগত স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।
এদিকে হামলার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।



