প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কার্যকর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জোরালোভাবে সামনে এসেছে। দেশটির একশ ৩০ জনেরও বেশি বিশিষ্ট নাগরিক যৌথভাবে সরকারের কাছে এ আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন উপজাতীয় নেতারা।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, জর্ডান কোনো আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ নয়। তাই দেশের ভূখণ্ডকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকলে জর্ডান অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কয়েক বছর আগে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিটি বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে চুক্তিটি সংশোধন অথবা বাতিল করে এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে জাতীয় স্বার্থ, স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে বিদেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনার পর জর্ডানেও বিদেশি সেনা উপস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বিষয়টি এখন দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
তবে জর্ডান সরকার আগেই জানিয়েছে, দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা দুই দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের দাবি, এই কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জর্ডানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় আইনকে সম্পূর্ণ সম্মান জানানো হচ্ছে।



