রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৬, ২০২৬, ১০:১২ এএম

জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযান তাদের চলমান সামরিক কর্মসূচির অংশ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় এটি পরিচালিত হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জর্ডানের আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন পাঠানো হয়। হামলার লক্ষ্য হিসেবে সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থায়ী রাডার স্থাপনা এবং জ্বালানি সংরক্ষণাগারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সামরিক স্থাপনায় চালানো হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইরানশাহরের বাম্পুর ব্যারাকে হামলায় কয়েকজন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনার পর প্রতিশোধমূলক এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এর আগে দেশটির বিপ্লবী বাহিনীও দাবি করেছিল, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং সেনা সমাবেশস্থল লক্ষ্যবস্তু ছিল। একই সঙ্গে কুয়েতের ভূখণ্ড সামরিক অভিযানে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দেশটির জনগণের প্রতি বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ দফার সামরিক অভিযান সম্পন্ন করেছে। তাদের দাবি, অভিযানে ইরানের বিভিন্ন সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনায় নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে।

মার্কিন বাহিনীর মতে, এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া। অভিযানে ইরানের উপকূলীয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের এসব সামরিক দাবির স্বাধীনভাবে তাৎক্ষণিক সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!