প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার পর ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে অভিযান চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মধ্যাঞ্চলীয় কমান্ড। সংস্থাটির দাবি, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে সফল হামলা পরিচালনা করা হয়েছে।
রোববার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলায় ব্যবহৃত সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ থাকা ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার জর্ডানে সংঘটিত হামলায় অন্তত দুইজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও একজন সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। আহত চার সেনাকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি অভিযানের ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন পক্ষ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ৪৩০ জনেরও বেশি সেনাসদস্য। এতে বোঝা যাচ্ছে, সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও তত বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে উঠেছে।



