রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি ব্রিটেনের

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ০৮:৩২ এএম

ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি ব্রিটেনের

ফাইল ছবি

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে পূর্ববর্তী সরকারের গৃহীত নীতিই কার্যত বহাল থাকল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ঘিরে সামরিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার পর যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টারা অংশ নেন। সেখানে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যদিও এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য প্রকাশ করেনি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের অনুরোধে প্রথমদিকে সম্মতি দেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও আইনি শর্ত পূরণ ছাড়া কোনো সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহার করা যাবে না। তবে পরবর্তীতে ইরান ব্রিটেনের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তখন তিনি অবস্থান বদলে ইংল্যান্ডের একটি বিমানঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে অথবা অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেকোনো নতুন হামলার জবাব আগের তুলনায় বহু গুণ কঠোর হবে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। একই সঙ্গে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগামী দিনগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!