রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

‘ইরান-ইরাকের গভীর বন্ধন কোনো সীমান্ত বা শক্তি বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম

‘ইরান-ইরাকের গভীর বন্ধন কোনো সীমান্ত বা শক্তি বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না’

ফাইল ছবি

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান ও ইরাকের সম্পর্ক কেবল দুটি প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বহু শতাব্দীর ইতিহাস, অভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সভ্যতার ঐতিহ্যের ওপর এই সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত। তাই কোনো সীমান্ত, রাজনৈতিক চাপ বা বহিরাগত শক্তি এই বন্ধনকে দুর্বল করতে পারবে না।

বুধবার তেহরানে নবনিযুক্ত ইরাকি রাষ্ট্রদূত ইয়াসের আবদুলজাহরা আল-হাজ্জাজের পরিচয়পত্র গ্রহণের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন স্বার্থ এবং ঐতিহাসিক বন্ধনের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। এই সম্পর্ক সাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এটি এমন একটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, পারস্পরিক সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার এবং আঞ্চলিক ঐক্য জোরদার করা বর্তমান সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। অর্থনীতি, বাণিজ্য, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি, রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে অঞ্চলজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পেজেশকিয়ান বলেন, মুসলিম বিশ্বে বিপুল জনশক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও শক্তিশালী হলে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

তিনি ইরাকে আয়োজিত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির গণজানাজার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর ভাষ্য, ওই অনুষ্ঠানে মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক আবেগ, বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক সংযোগের প্রতিফলন বহন করে।

অন্যদিকে নবনিযুক্ত ইরাকি রাষ্ট্রদূত ইয়াসের আবদুলজাহরা আল-হাজ্জাজ বলেন, তেহরান ও বাগদাদের সম্পর্ক পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি জানান, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ইরান সফর এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!