রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানের ‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

ইরানের ‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

সংগৃহীত

ইরানের তৈরি ‘খাইবার শেকান’ নামে পরিচিত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাম্প্রতিক সংঘাতে দেশটির অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা, কঠিন জ্বালানিনির্ভর প্রযুক্তি এবং লক্ষ্যবস্তুতে তুলনামূলক নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতার কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আগের অনেক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আগে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতির প্রয়োজন হলেও ‘খাইবার শেকান’ আগে থেকেই প্রস্তুত অবস্থায় রাখা যায়। প্রয়োজনের মুহূর্তে চলমান উৎক্ষেপণযান থেকে অল্প সময়ের মধ্যেই এটি নিক্ষেপ করা সম্ভব। ফলে প্রতিপক্ষের আগাম হামলার ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ও দ্রুতগতির ড্রোন ব্যবহার করে সমন্বিত হামলার কৌশল গ্রহণ করেছে বলে বিভিন্ন সামরিক সূত্রের মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এ ধরনের কৌশলের উদ্দেশ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর একযোগে চাপ সৃষ্টি করা এবং প্রতিরোধ সক্ষমতাকে দুর্বল করে দেওয়া। যদিও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, নিক্ষেপ করা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই প্রতিহত করা হয়েছে, তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘খাইবার শেকান’-এর কিছু সংস্করণে এমন বিস্ফোরক অংশ ব্যবহার করা হয়েছে, যা শেষ পর্যায়ে মূল ক্ষেপণাস্ত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজস্ব গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এর ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে এবং লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর সুযোগও বৃদ্ধি পায়।

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান দীর্ঘদিন ধরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়নে বিনিয়োগ করে আসছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে সেই সক্ষমতার বাস্তব প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে নতুন তথ্য সংগ্রহ করে অস্ত্রের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে তেহরান।

অন্যদিকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলাফল নিয়ে দুই পক্ষই ভিন্ন দাবি করছে। ইসরায়েলের বক্তব্য, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। বিপরীতে ইরান দাবি করছে, তারা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!