রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানি হুমকির জেরেই তুরস্কে উড়োজাহাজ বদলান ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম

ইরানি হুমকির জেরেই তুরস্কে  উড়োজাহাজ বদলান ট্রাম্প

সংগৃহীত

তুরস্কে অনুষ্ঠিত উত্তর আটলান্টিক সামরিক জোটের সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ পরিকল্পনায় শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছিল। নিরাপত্তা সংস্থার হাতে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য পৌঁছানোর পর নির্ধারিত নতুন উড়োজাহাজের পরিবর্তে পুরোনো রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজে দেশ ত্যাগ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ট্রাম্প তুরস্ক সফরে যাওয়ার সময় সম্প্রতি যুক্ত হওয়া একটি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ ব্যবহার করেছিলেন। তবে সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার আগে নিরাপত্তা বিশ্লেষণে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি সামনে আসে। এরপর প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ সংস্থা তাকে ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ অনুযায়ী তিনি পুরোনো রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজে যাত্রা করেন।

প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কাই ছিল এই পরিবর্তনের মূল কারণ। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, হুমকি কোনো নির্দিষ্ট উড়োজাহাজকে কেন্দ্র করে ছিল না; বরং প্রেসিডেন্ট যে উড়োজাহাজেই ভ্রমণ করতেন, সেটিই সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারত।

এ ঘটনার পর নতুন রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত পুরোনো রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজে উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা থাকলেও নতুন উড়োজাহাজে সেই সব প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি সংযোজন করা হয়নি। ফলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরে প্রেসিডেন্টও স্বীকার করেন, উড়োজাহাজটিকে আরও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে উড়োজাহাজটি কিছু সময়ের জন্য পরিষেবার বাইরে রেখে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হবে। ওই সময় প্রেসিডেন্টের সরকারি সফরে পুরোনো রাষ্ট্রীয় উড়োজাহাজই ব্যবহার করা হবে।

এদিকে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিরুদ্ধে হুমকির মাত্রা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের প্রতিটি বিদেশ সফর এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কার্যক্রমেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!