রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মক্কা চুক্তি নিয়ে নতুন পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

মক্কা চুক্তি নিয়ে নতুন পরীক্ষার মুখে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’-তে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে কোনো নিরাপত্তা সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হলে বাংলাদেশ তাতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। তিনি এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখার কথাও জানিয়েছেন।

গত ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তির মূল বিষয় হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও যৌথ নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও একমত হয়েছে দেশগুলো।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের স্বার্থ বিবেচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সৌদি আরব বাংলাদেশের নেতৃত্বকে এই উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণকে ঘিরে আঞ্চলিক কূটনীতিতেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতোমধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়াদিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

তবে চুক্তির পক্ষগুলোর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সামরিক জোট হিসেবে গড়ে তোলা হয়নি। বরং পারস্পরিক নিরাপত্তা, প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধিই এর প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও দেশকে এই কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত এতে যোগ দেয়, তাহলে দেশের দীর্ঘদিনের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার আগে অর্থনৈতিক স্বার্থ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সব দিকই সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!