রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সমুদ্রে নামছে তুরস্কের প্রথম বিমানবাহী রণতরি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম

সমুদ্রে নামছে তুরস্কের প্রথম বিমানবাহী রণতরি

সংগৃহীত

তুরস্কের নৌবাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে দেশটির নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ ড্রোনবাহী বিমানবাহী রণতরি ‘মুগেম’। আগামী ২০২৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রণতরিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমুদ্রে নামানোর প্রস্তুতি চলছে। তুরস্কের নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এরজুমেন্ট তাতলিওগ্লু এ তথ্য জানিয়েছেন।

কোকায়েলি প্রদেশের গলচুক নৌঘাঁটিতে আয়োজিত একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর প্রধান জানান, ‘মুগেম’ শুধু প্রচলিত যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য তৈরি করা হচ্ছে না। এর নকশায় মানববিহীন উড়োজাহাজ, স্বয়ংক্রিয় নৌযান এবং মানববিহীন ডুবোজাহাজ পরিচালনার সক্ষমতাও রাখা হয়েছে। ফলে আকাশ ও সমুদ্র—দুই ক্ষেত্রেই একসঙ্গে অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ হাজার টন ওজনের রণতরিটি ২৮৫ মিটার দীর্ঘ। এতে একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজার সেনার অবস্থান ও চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬ নট গতিতে চলতে সক্ষম জাহাজটি বিরতিহীনভাবে প্রায় ১০ হাজার নটিক্যাল মাইল সমুদ্রপথ পাড়ি দিতে পারবে।

রণতরিতে তুরস্কের তৈরি বিভিন্ন ধরনের মানববিহীন যুদ্ধযান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ‘কিজিলেলমা’, ‘আনকা-৩’ এবং ‘টিবি-৩’ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া ‘হুরজেট’-এর নৌ সংস্করণও রণতরি থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে পারবে। উড়োজাহাজ ও মানববিহীন আকাশযানের কার্যক্রম সহজ করতে জাহাজটির সামনের অংশে বিশেষ উঁচু ঢালযুক্ত উড্ডয়ন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাচিরের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মুগেম’ দেশটির নৌ সক্ষমতাকে আরও বিস্তৃত করবে। এতদিন মূলত নিজস্ব নৌসীমা সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হলেও নতুন এই রণতরির মাধ্যমে দূর সমুদ্রে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত যুদ্ধবিমানের পরিবর্তে মানববিহীন আকাশযানকে কেন্দ্র করে রণতরিটির নকশা করা হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতের সমুদ্রযুদ্ধের কৌশলে এটি তুরস্ককে নতুন ধরনের সক্ষমতা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বড় বিমানবাহী রণতরিগুলোর পাশাপাশি তুরস্কের এই নতুন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা অঙ্গনে দেশটির সামরিক প্রযুক্তির অগ্রগতিকে আরও দৃশ্যমান করবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!