প্রকাশিত: জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই সৌদি আরবের তেল শোধনাগার ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চল এবং রাজধানী রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা একাধিক ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আকাশপথে আসা ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার এবং জ্বালানি অবকাঠামো। সময়মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলায় কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো ইরাকের দিক থেকে সৌদি ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ধ্বংস করা হয়। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে, ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা পৃথক এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে। যদিও হামলায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি। একইভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিরাপদ রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সৌদি আরবের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সীমান্ত অতিক্রম করে বৃহত্তর অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তারা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন হামলা প্রতিরোধে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশেষ নজরে রয়েছে।



