রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৯:০৯ এএম

লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

ফাইল ছবি

লোহিত সাগরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা। তার দাবি, ইরান যেভাবে হরমুজ প্রণালিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ব্যবহার করে, হুতিরাও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এমন পরিস্থিতি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আফরাহ আল-জৌবা এসব অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সীমিত প্রতিক্রিয়া হুতি বিদ্রোহীদের আরও উৎসাহিত করছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এই নৌপথ লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্যবাহী জাহাজ এই পথ ব্যবহার করে চলাচল করে। ফলে এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে বলেও জানান তিনি। নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং চলমান উত্তেজনার কারণে অনেক আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান বিকল্প পথ ব্যবহার করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পণ্য সরবরাহে বিলম্বের আশঙ্কাও বাড়ছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে সৌদি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযানের হামলাও চালানো হয়। এর জবাবে সৌদি বাহিনী হুতি নিয়ন্ত্রিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হোদেইদায় পাল্টা বিমান হামলা চালায়।

আফরাহ আল-জৌবা আরও বলেন, ইয়েমেন সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকা এবং হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সীমান্তে বিচ্ছিন্ন গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু হয়নি বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখলের পর ইয়েমেনে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দেশটির বড় একটি অংশ এখনো হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!