রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সংগৃহীত

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। শক্তিশালী এই ভূকম্পনের কারণে বহু মানুষ আহত হয়েছেন, বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। কম্পনের পরপরই বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গা ও আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যান। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার কাজও চালিয়ে যাচ্ছে।

ভূমিকম্পের অভিঘাতে হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। সড়ক ও সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, ফলে যান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। কয়েকটি ভবনের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে। একটি বিপণিবিতানেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যদিও এর কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। উচ্চগতির ট্রেনসহ বিভিন্ন রেলসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। কুমামোতো বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকায় বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজের যাত্রা বাতিল অথবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আগামী কয়েক দিন শক্তিশালী পরাঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। এজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেড় লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল একযোগে কাজ করছে। বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও মাঠে নেমেছে।

এদিকে শিল্পকারখানাগুলোও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বেশ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হওয়ায় এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশটির প্রস্তুতি তুলনামূলক উন্নত। তারপরও এত শক্তিশালী ভূমিকম্পে অবকাঠামো ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে প্রশাসনের কাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!