প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম
নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে চীনের তৈরি কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এ ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রথম চালান তেহরানের হাতে পৌঁছাতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।
জানা গেছে, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ইরানকে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হতে পারে। এসব প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহে প্রায় ৬ থেকে ৭ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে বলেও বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে তেহরান।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। এরপর থেকেই দেশটি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো আধুনিকায়নের উদ্যোগ জোরদার করেছে। সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় চীনের তৈরি বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সরবরাহের আলোচনা চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে চীনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো অস্ত্র সরবরাহের তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের দাবি ভিত্তিহীন এবং চীন সব সময় শান্তিপূর্ণ সমাধান ও সংঘাত নিরসনের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, কাঁধে বহনযোগ্য আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। এগুলো সহজে বহন করা যায়, দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব এবং নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও চালকবিহীন উড়োজাহাজ প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি এ ধরনের অস্ত্র একটি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করে।
বিশ্লেষকদের আরও ধারণা, সম্ভাব্য এই অস্ত্র সংগ্রহ বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে চীন ও ইরানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবেও বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে। তবে সম্ভাব্য সরবরাহের সময়, সংখ্যা এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় এখনো পরিবর্তন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো সতর্ক করেছে।



