প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অসংখ্য ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের কম্পনে একটি বিপণিবিতানের অংশ ধসে পড়ে। পরে সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
দুর্যোগের কারণে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিজ বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে তীব্র গরম পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে আক্রান্ত এলাকায় তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। এ কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষকে অতিরিক্ত গরমজনিত অসুস্থতা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভূমিকম্পের পর থেকে এক শতাধিক পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। নতুন করে কম্পন দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা এখনো নিজ নিজ ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। নিরাপত্তার কারণে অনেকে ব্যক্তিগত যানবাহনেই রাত কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে বহু এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দুর্ভোগে রয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে একটি বিপণিবিতান এবং একটি কাগজ উৎপাদন কারখানায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থাপনার নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজও চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরের মধ্যে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প তারা আগে অনুভব করেননি। পরপর পরাঘাত এবং অব্যাহত অনিশ্চয়তায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো পুনর্গঠনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান সরকার।



