রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আজাদ কাশ্মিরের নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৩০-এর বেশি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

আজাদ কাশ্মিরের নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৩০-এর বেশি

সংগৃহীত

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মিরে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থানের ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে সাধারণ আন্দোলনকারী ছাড়াও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আজাদ কাশ্মিরে মোট ১০টি জেলা রয়েছে, যা তিনটি প্রশাসনিক বিভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগের কোটলি, মিরপুর ও ভিম্বার জেলায় প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভোটের দিন একাধিক কেন্দ্রে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায় পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিধানসভায় শরণার্থী আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন। আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। পরে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

নির্বাচন কমিশন শুরুতে সব জেলায় একদিনে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করলেও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম ধাপের ভোট শেষে বাকি জেলাগুলোতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরবর্তী ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। কোথাও কোথাও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। এসব ঘটনার জেরেই প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এর আগে আন্দোলনের সময় অঞ্চলজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল। নির্বাচনকালেও সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা জরুরি। রাজনৈতিক সংকট সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে, সহিংসতার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং পরবর্তী ভোটপর্ব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!