প্রকাশিত: জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৯:১৮ এএম
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের পর খনির একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় বহু শ্রমিক ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রাদেশিক রাজধানীর কাছাকাছি দুর্গম সোরাঙ্গে এলাকায় অবস্থিত কয়লাখনিটিতে বৃহস্পতিবার এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় খনির ভেতরের বড় অংশ ধসে পড়ে এবং সেখানে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন।
দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ২৯টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া আরও তিনজনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে, যা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে অভিযান অব্যাহত থাকলেও এত দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় খনির ভেতরে মোট ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। বিস্ফোরণের প্রভাব এতটাই শক্তিশালী ছিল যে পাশের আরও দুটি কয়লাখনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে উদ্ধার তৎপরতা আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বেলুচিস্তানের বহু কয়লাখনিতে এখনো পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। গ্যাসের মাত্রা পর্যবেক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের সুযোগ এবং জরুরি নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।
শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করে অনেক খনিতে শ্রমিকদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অল্প আয়ের বিনিময়ে জীবন বাজি রেখে কাজ করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে প্রতি বছরই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিক প্রাণ হারাচ্ছেন।



