রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অভিবাসন সংকটে স্পেনকে ঘিরে ২২ দেশের আপত্তি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৮:৩৮ এএম

অভিবাসন সংকটে স্পেনকে ঘিরে ২২ দেশের আপত্তি

সংগৃহীত

মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অভিবাসন সংকট ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক অভিবাসীর সমুদ্রপথে প্রবেশের ঘটনাকে ঘিরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতৃত্ব।

এই সংকটকে ঘিরে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ইতালি সাময়িকভাবে স্পেনের সঙ্গে অবাধ যাতায়াতসংক্রান্ত শেনজেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। পরে ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পক্ষে মত প্রকাশ করে ইতালির অবস্থানকে সমর্থন জানায়। ফলে অভিবাসন ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের নেতৃত্বের কাছে পাঠানো ২২টি সদস্য দেশের যৌথ চিঠিতে অবৈধ অনুপ্রবেশকে পুরো ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মিত্র দেশগুলোর সমালোচনার জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সেউতা শেনজেন এলাকার অংশ নয় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্পেন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। তার দাবি, অবৈধ অনুপ্রবেশ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

স্পেন সরকার জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা অধিকাংশ অভিবাসীকে ইতোমধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সমুদ্রপথে সাঁতরে প্রবেশের চেষ্টাকালে প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৭ জনে। একই সঙ্গে জলপথে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভাসমান প্রতিবন্ধক নির্মাণের কাজও চলছে।

এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারাও দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। কেউ মরক্কোর ভূমিকা আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন, আবার কেউ বিদ্যমান নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সেউতা সংকট শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, অভিবাসন নীতি এবং অবাধ চলাচল ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!