প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৭:৩২ এএম
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মরক্কোর সামনে বাধা হয়ে দাঁড়াল ফ্রান্স। ২০২২ সালের সেমিফাইনালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও একই প্রতিপক্ষকে একই ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। দিদিয়ের দেশমের দল এবারও নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ফ্রান্স জয় পেয়েছে ২-০ গোলের ব্যবধানে। দলের দুই বড় তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে করেছেন একটি করে গোল। অন্যদিকে দুর্দান্ত লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়েছে মরক্কোকে। একই সঙ্গে তাদের দীর্ঘ অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতাও থেমে গেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ফ্রান্স। তবে প্রথমার্ধে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। একের পর এক আক্রমণ প্রতিহত করে ফরাসিদের হতাশ করেন তিনি। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে বেশ কয়েকবার নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হয় ফ্রান্স।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। মরক্কোর নুসাইর মাজরাউয়ি নিজেদের সীমানার ভেতরে এমবাপ্পেকে ফেলে দিলে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন ফরাসি অধিনায়ক নিজেই। তবে তার নেওয়া শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বুনু।
এরপরও ফ্রান্স চাপ অব্যাহত রাখে। দেজিরে দুয়ে সুযোগ পেলেও আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান মরক্কোর গোলরক্ষক। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে লুকাস দিনিয়ের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যেতে হয় ফরাসিদের।
দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলে আধিপত্য ধরে রাখে ফ্রান্স। আক্রমণের ধার বাড়ালেও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। অবশেষে ৬০ মিনিটে দলের হয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন এমবাপ্পে। তার নেওয়া দুর্দান্ত শট প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে জালে পৌঁছে যায়। পেনাল্টি ব্যর্থতার হতাশা কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন এই তারকা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি এমবাপ্পের ২০তম গোল। চলতি আসরেও তার গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটে। গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের গোল করাতেও অবদান রাখায় ব্যক্তিগত পুরস্কারের দৌড়েও এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ে মরক্কো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ফ্রান্সের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। এর মধ্যেই ৬৬ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উসমান দেম্বেলে। এমবাপ্পের তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে শক্তিশালী শটে গোল করেন তিনি। এরপর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি মরক্কো।
দুর্দান্ত লড়াই করে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিলেও এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। অন্যদিকে ফ্রান্স নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযানে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ হবে স্পেন ও বেলজিয়ামের মধ্যকার বিজয়ী দল। আগামী ১৪ জুলাই ডালাসে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মাঠে নামবে ফরাসিরা।



