প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন এক বক্তব্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। তবে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আপাতত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাদের সেই অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখা। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটিরও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাত এড়িয়ে যাওয়াই বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তিনি বলেন, সম্ভাব্য সামরিক অভিযান থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত নয়; বরং এটি একটি কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর ওপর নির্ভর করবে। যদি আলোচনায় অগ্রগতি না হয়, তাহলে পরিস্থিতি নতুন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, এই উদ্যোগে ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে নতুন কূটনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সমঝোতা হয়নি, তবু সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথ খোলা থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো।



