প্রকাশিত: আগস্ট ২, ২০২৬, ০৩:৪৪ পিএম
প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেছেন, ইসলামের শিক্ষা ও মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর কথা বলার আগে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উচিত নিজেদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও কর্মকাণ্ড ইসলামের মূল আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা আত্মসমালোচনার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ইরান শুধু একটি রাষ্ট্র নয়, বরং বহু শতাব্দীর সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সভ্যতার ধারক। ইসলাম গ্রহণের পর দেশটি ইসলামী জ্ঞানচর্চা, দর্শন, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত, সাহিত্য এবং ধর্মীয় গবেষণাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। তাই ইসলাম ও মুসলিম বিশ্বের প্রতি ইরানের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার আগে ঐতিহাসিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
ইসমাইল বাঘায়ি পবিত্র কোরআনের সূরা হুজুরাতের একটি আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, ইসলামে মানুষের মর্যাদা নির্ধারিত হয় আল্লাহভীতির ভিত্তিতে, ভাষা, জাতি বা ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। কেবল কোনো নির্দিষ্ট ভাষা বা অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে কেউ মহানবি (সা.)-এর আদর্শের প্রকৃত অনুসারী হয়ে যায় না। ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা বাস্তব জীবনে ন্যায়বিচার, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই প্রতিফলিত হয়।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ইরান সব সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করেছে। মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক ঐক্য, সহযোগিতা এবং ভ্রাতৃত্ব রক্ষাকেই তেহরান গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। তবে কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে সহযোগিতা করা কিংবা বহিরাগত শক্তির স্বার্থে অবস্থান নেওয়া ইসলামের ন্যায়বিচার ও ভ্রাতৃত্ববোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের বক্তব্যে আরও বলা হয়, মুসলমানদের কখনো জুলুমের পক্ষে অবস্থান নেওয়া উচিত নয়। বরং ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকাই ইসলামের নির্দেশনা। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন, মহানবি (সা.)-এর সুন্নাহ এবং মুসলিম উম্মাহর চেতনা একই শিক্ষা দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সম্প্রতি বাহরাইনের শাসকের এক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ইরানের এ প্রতিক্রিয়া এসেছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে উভয় পক্ষের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।



