প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১০:৪০ এএম
বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রকাশ্যে আশ্বস্ত করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানকালে লেখিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তিনি নিজেই গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি রাজ্যে বাক্স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ সুরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে পূর্বনির্ধারিত অতিথি না হলেও তসলিমা নাসরিন সেখানে উপস্থিত থাকায় তাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। এ সময় লেখিকার হাতে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিকৃতি তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে যে কেউ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারেন। তার ভাষ্য, রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক পরিবেশে গণতন্ত্র, সংবিধান, বাক্স্বাধীনতা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার যথাযথভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে যেসব ভয়ভীতি, বাধা কিংবা প্রশাসনিক চাপের অভিযোগ ছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেসব আর নেই।
তসলিমা নাসরিনকে উদ্দেশ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, তিনি পশ্চিমবঙ্গে যতবার ইচ্ছা আসতে পারেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। লেখিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তিনি ব্যক্তিগতভাবেই পালন করবেন বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি তসলিমা নাসরিনের সাহিত্যকর্মের প্রশংসা করে বলেন, তার লেখার পাঠকসংখ্যা ব্যাপক এবং সাহিত্যজগতে তার বিশেষ অবস্থান রয়েছে।
এ সময় তিনি আরও উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে শুধু নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়নি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন এসেছে। ফলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পরিবেশ এখন আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাসিত জীবনযাপন করা তসলিমা নাসরিনকে প্রকাশ্যে দেওয়া এই নিরাপত্তার আশ্বাস বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তসলিমা নাসরিনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



