প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, বৈষম্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট এবং রাজনৈতিক অসন্তোষের জেরে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
গত জুন মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামেন কাশ্মীরের বাসিন্দারা। আন্দোলনের অন্যতম দাবি হলো আইনসভায় কাশ্মীরের বাইরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বাতিল এবং স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলটির ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে গত কয়েক সপ্তাহে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, নিহতদের বড় একটি অংশ তরুণ ও কিশোর, যারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
সংঘাতপূর্ণ বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থায় কড়াকড়ি, কারফিউ এবং বিভিন্ন সেবা সীমিত হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ব্যাংকিং কার্যক্রম ও যোগাযোগব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহতদের চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত কয়েকজন চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। সীমিত চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা ন্যায্য অধিকার ও জীবনযাত্রার উন্নতির দাবিতে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু তার বদলে প্রাণহানি ও সহিংসতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অনেকেই দ্রুত সংকট নিরসন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। তারা মনে করছেন, বলপ্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপ ও আস্থাভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।



