রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় সৌদির সতর্কবার্তা ট্রাম্পকে

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৩, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনায় সৌদির সতর্কবার্তা ট্রাম্পকে

ফাইল ছবি

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক চাপে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন প্রত্যাশা করছে, অন্যদিকে সৌদি আরব অঞ্চলজুড়ে নতুন সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ওয়াশিংটনের দুই ঘনিষ্ঠ মিত্রের অবস্থান এখন স্পষ্টভাবে ভিন্নমুখী হয়ে উঠেছে।

কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সাম্প্রতিক এক ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তার আশঙ্কা, নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব বর্তমানে দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মনোযোগী। এই পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করছে স্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতার ওপর। এ অবস্থায় ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন যুদ্ধ শুরু হলে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে তেহরানও আগেই সতর্ক করে দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা হলে শুধু ইসরায়েল নয়, অঞ্চলজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও অবকাঠামো স্থাপনাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কেবল সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ অঞ্চলের সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হয়নি। ইয়েমেনসহ বিভিন্ন সংঘাতে দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানও কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি। তাই কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর ওপরই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সৌদি আরব।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এসব আলোচনায় তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে ইরান কঠোর জবাব দেবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে এবং কূটনৈতিক তৎপরতাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!