প্রকাশিত: আগস্ট ৪, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আবারও আইনি জটিলতায় পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন ২৫টি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের পরও প্রশাসন নতুন করে শুল্ক আরোপ করে সাংবিধানিক ও আইনি সীমা লঙ্ঘন করেছে। এ কারণে নতুন এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছেন মামলাকারীরা।
জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। প্রশাসনের দাবি, কিছু দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। সেই কারণেই বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে মামলাকারীদের ভাষ্য, সুপ্রিম কোর্ট পূর্বে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আলোচিত শুল্কনীতি বাতিল করার পর নতুন নামে একই ধরনের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে, যা আদালতের সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। তাদের মতে, এই শুল্ক কার্যকর হলে সাধারণ ভোক্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং আমদানিনির্ভর খাতগুলো অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়বে।
এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষা এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের জবাব দিতেই নতুন শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় এবং বিদ্যমান আইনের আওতাতেই নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের প্রধান আইন কর্মকর্তা লেটিটিয়া জেমস বলেন, সর্বোচ্চ আদালতে আগের সিদ্ধান্তে পরাজিত হওয়ার পর প্রশাসন নতুন কৌশলে আবারও একই ধরনের শুল্ক কার্যকর করতে চাইছে। তার দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতির জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্পর্কের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্তের দিকে এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল।



