প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
আগামী ১ জুলাই থেকে দেশের মুঠোফোনের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ, চলতি বছরের শুরুতে আমদানি করা সম্পূর্ণ প্রস্তুত মুঠোফোনের ওপর যে সাময়িক শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। নতুন করে এই সুবিধা বহাল রাখার ঘোষণা না এলে আমদানির ওপর করের বোঝা বেড়ে যাবে, যার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়তে পারে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, করের হার বৃদ্ধি পেলে আমদানি করা মুঠোফোনের দাম প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে নতুন ফোন কিনতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে আমদানি করা ফোনের দাম বেড়ে গেলে কম দামের অননুমোদিত বাজারের দিকে ক্রেতাদের ঝুঁকে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
মুঠোফোন আমদানিকারকদের সংগঠন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে শুল্ক-সুবিধার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তাদের দাবি, বর্তমান সুবিধা প্রত্যাহার হলে মোট করের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও আগের তুলনায় বেশি হয়েছে। ফলে এখনই দাম কমানো সম্ভব নয়।
এদিকে নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটেও এই শুল্ক-সুবিধা বহাল রাখার বিষয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী ও ক্রেতা—উভয় পক্ষই এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বর্তমানে মুঠোফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, অনলাইন সেবা এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে এটি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তাই এর মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের মতে, ডিজিটাল সেবা সবার নাগালের মধ্যে রাখতে হলে মুঠোফোনের ওপর করের চাপ যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রযুক্তিনির্ভর সেবা গ্রহণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।



