প্রকাশিত: আগস্ট ৬, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের রুট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে ইরান ও ওমান। সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দুই দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত নৌপথের ভৌগোলিক সীমারেখা নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই সমঝোতার কারিগরি, আইনগত, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করে শিগগিরই একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করা হবে।
সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মধ্যবর্তী অংশে একটি বিশেষ নৌ চলাচল করিডোর গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই করিডোরের তদারকি ও পরিচালনার দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করবে ইরান ও ওমান। তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই পথ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে না।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে এই জলপথে সব দেশের অবাধ নৌচলাচলের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালীর সংশ্লিষ্ট জলসীমায় নিজস্ব সার্বভৌম অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নির্দিষ্ট হারে নৌচলাচল ফি আদায়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। এ কারণে বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক ও আইনগত আলোচনা আরও জোরদার হয়েছে।
এদিকে এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চলমান সমঝোতা প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাদের অংশগ্রহণে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং দ্রুত নৌপথ চালু হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, গত বছরের প্রথমার্ধে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে। অথচ বিশ্বের মোট খনিজ তেল পরিবহনের উল্লেখযোগ্য অংশ এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সেখানে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, পণ্য পরিবহন এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। নতুন এই সমঝোতা ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



