প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক অভিযানে প্রচলিত উপগ্রহনির্ভর অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়নি বলে দাবি করেছে ইরানের বিমানবাহিনী। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলটরা আধুনিক অবস্থান নির্ণয় প্রযুক্তির পরিবর্তে মানচিত্র, দিকনির্দেশনা এবং নিজস্ব নৌ-চালনা দক্ষতার ওপর নির্ভর করেই লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছান।
ইরানের বিমানবাহিনীর উপ-সমন্বয়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জাফারির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ কাতারের আল-উদেইদ এবং কুয়েতের আল-আদিরি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানে কোনো ধরনের উপগ্রহনির্ভর নৌ-চালনা ব্যবস্থা কিংবা ইলেকট্রনিক সংকেত ব্যবহার করা হয়নি। তার দাবি, দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি পাইলটরা প্রচলিত পদ্ধতিতে দীর্ঘপথ অতিক্রম ও অভিযান পরিচালনায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানের সময় কুয়েত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় ছিল। সেই পরিস্থিতিতে বিভ্রান্তির কারণে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুলিতেই যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিরাজের শহীদ দৌরান বিমানঘাঁটি থেকে চারজন পাইলট যুদ্ধবিমান নিয়ে অভিযানে অংশ নেন। তাদের মধ্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মরদেহ সম্প্রতি দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকি তিন পাইলটের অবস্থান বা পরিণতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সামরিক দাবি পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীন সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই না হওয়া পর্যন্ত এসব দাবিকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।



