রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ৭, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা

প্রতীকী ছবি

শিশু ও কিশোরদের মানসিক সুস্থতা, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ক্ষতিকর ডিজিটাল প্রভাব থেকে সুরক্ষার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করেছে ফ্রান্স। নতুন আইনের আওতায় ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব হিসাব খুলতে বা সেসব মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবে না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এ ধরনের আইন কার্যকর করার উদ্যোগে ফ্রান্সই প্রথম দেশ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

ফরাসি পার্লামেন্টে বিপুল সমর্থনে বিলটি অনুমোদিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অনুমোদনের পর এটি আইনে পরিণত হবে এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিসাব খোলা কিংবা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ থাকবে। আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে দেশটির ডিজিটাল ও সম্প্রচার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘আর্কম’।

আইনটি অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, শিশু ও কিশোরদের মানসিক বিকাশকে প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের লাভের উপকরণ হতে দেওয়া যাবে না। তাদের সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আর্কমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্রান্সে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা প্রতিদিন গড়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় টিকটক ব্যবহার করে। সংস্থাটির মতে, অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন মাধ্যমের অ্যালগরিদম ব্যবহারকারীদের সামনে এমন বিষয়বস্তু তুলে ধরে, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ বা ক্ষতিকর আচরণকে উৎসাহিত করতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ব্যবহারকারীদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা। পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মীদের একটি অংশের মত, কেবল বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং শিশুদের আসক্ত করে তোলে—এমন বৈশিষ্ট্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ব্যবসায়িক নীতিতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, অস্ট্রেলিয়ার পর ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ ইউরোপের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের আইন প্রণয়নে প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে স্পেন, গ্রিস, ডেনমার্ক এবং যুক্তরাজ্যও শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নীতিমালা তৈরির বিষয়ে কাজ করছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!