প্রকাশিত: আগস্ট ৯, ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম
সব ধরনের চাপ ও প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান তার প্রতিরোধের নীতি থেকে সরে আসবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একই সঙ্গে যুদ্ধে অন্যায়ভাবে নিহত ব্যক্তিদের রক্ত বিস্মৃত বা উপেক্ষিত হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) তেহরানে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে মহররম ও আশুরা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন আরাগচি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মহররম ও আশুরার ঘটনাবলি নিয়ে সংরক্ষিত নথিপত্র গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে আধিপত্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শক্তির মোকাবিলায় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য ইরানের দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রচেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাঁর মতে, এসব নথিতে যে কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন পাওয়া যায়, তা কেবল সংকীর্ণ জাতীয় স্বার্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের মর্যাদা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া একটি মানবকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ।
আরাগচি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও আশুরার চেতনা ইরানের জাতীয় পরিচয় এবং বিশ্বের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিভিন্ন সময়ে ধর্মবিরোধী নীতি গ্রহণকারী শাসনব্যবস্থার মধ্যেও এই অঙ্গীকার পুরোপুরি বিলীন হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বছরের মহররম ও আশুরা ইরানের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও মুক্তি রক্ষায় বহু মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত প্রাণ হারানোর ঘটনাও ইরানিদের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। তাঁর ভাষায়, ইতিহাস প্রমাণ করেছে—কোনো জাতি নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য আত্মত্যাগ ও অধ্যবসায়ের পথ পরিত্যাগ করলে শুধু ভূখণ্ড নয়, তাদের জাতীয় পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সক্ষমতাও হুমকির মুখে পড়ে।
এই উপলব্ধি থেকেই সব ধরনের চাপের মধ্যেও ইরান প্রতিরোধের প্রতি অঙ্গীকার ধরে রেখেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে বলে জানান আরাগচি।
তিনি আরও বলেন, অন্যায়ভাবে ঝরে যাওয়া রক্ত ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। নিহতদের আত্মত্যাগ ইরানের ন্যায়বিচারের সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করার প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। যারা এসব হত্যাকাণ্ড ও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচারের দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
আরাগচির বক্তব্যে ইরানের জাতীয় স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও প্রতিরোধের নীতির প্রতি দেশটির বর্তমান অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে।



