প্রকাশিত: আগস্ট ১০, ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের চোকো এলাকায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রাথমিক হিসাবে কম্পনের মাত্রা ৭ দশমিক ৪ বলে জানানো হলেও দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরে এর মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে উল্লেখ করেছে। ফলে ভূমিকম্পের শক্তি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌর এলাকার কাছাকাছি। রাজধানী বোগোতা থেকে স্থানটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী গভীরতা ছিল ৭৯ কিলোমিটার।
শক্তিশালী কম্পনের কারণে চোকোসহ কলম্বিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ও ভবন থেকে বেরিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেন। রাজধানী বোগোতাতেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। এমনকি দেশটির সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী ইকুয়েডর ও ভেনেজুয়েলার কিছু এলাকাতেও কম্পন টের পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চোকো অঞ্চলের গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা জানিয়েছেন, আঞ্চলিক রাজধানী কিবদোতে ভূমিকম্পের প্রভাবে কয়েকজন মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভবনে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির কাজ শুরু করেছে। সম্ভাব্য পরবর্তী কম্পন নিয়েও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভূমিকম্পের পর ভবনগুলোতে ফাটল বা কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ভূমিকম্পের মাত্রা নিয়ে প্রাথমিক তথ্য পরিবর্তিত হওয়ায় প্রকৃত শক্তি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও যাচাই প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রবল কম্পনের পর সম্ভাব্য পরবর্তী ভূমিকম্প নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ও স্থাপনাগুলো থেকে মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ আমেরিকার এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়েও শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন এই কম্পন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর চোকো অঞ্চল থেকেই পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শেষ হলে ভূমিকম্পে প্রকৃত হতাহত এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।



