প্রকাশিত: আগস্ট ১১, ২০২৬, ১১:০৪ এএম
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকালে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জন নিহত এবং ৫৭০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পশ্চিমাঞ্চলের চোকো বিভাগের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। শক্তিশালী এই কম্পন কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। কালি, পেরেইরা, মানিজালেস ও কিবদোসহ বেশ কয়েকটি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। পাশের ইকুয়েডর ও পানামাতেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে কালি ও পেরেইরা। বিভিন্ন স্থানে ভবন ধসে পড়েছে, অনেক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কায় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে অংশ নিচ্ছেন।
মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এতে উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি বিমানবন্দরের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর কলম্বিয়া সরকার জাতীয় পর্যায়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উদ্ধার, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দেশও কলম্বিয়ার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
কলম্বিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে মাঝেমধ্যে ভূকম্পন অনুভূত হয়। তবে এবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন তথ্যভান্ডারে নিখোঁজ ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় জমা দিচ্ছেন। যোগাযোগব্যবস্থা ও কিছু এলাকায় অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে অনেক পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে।



