প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর প্রাণহানি বেড়ে ২৫৪ জনে পৌঁছেছে। সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবারও বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের জীবিত উদ্ধারে জোরদারভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কফি উৎপাদনকারী অঞ্চলে। পেরেইরা শহরেই ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালি শহরে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৯৫ জন। অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়ও হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের পর বহু আবাসিক ভবন, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে, আবার কোথাও স্থাপনায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে কিংবা ভবন হেলে পড়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতির পাশাপাশি নিজেদের হাত ব্যবহার করেও ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন। কোথাও ক্রেন ও খননযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসাবশেষ সরানো হচ্ছে, আবার কোথাও উদ্ধারকর্মীরা মানবশৃঙ্খল তৈরি করে হাতে হাতে ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নিচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আছেন কি না, তা জানতে অনেক সময় উদ্ধারকারীরা সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রেখে অপেক্ষা করছেন।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো অঞ্চলের বনাঞ্চলে বসবাসকারী অনেক আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখনো বিদ্যুৎ ও প্রয়োজনীয় মৌলিক সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ঘরবাড়ি হারানো মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি খামার ও গ্রামীণ অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হয়েছে।
উদ্ধারকর্মীদের ধারণা, এখনো বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকতে পারেন। তাই উদ্ধার অভিযান দ্রুত শেষ করার পরিবর্তে জীবিতদের সন্ধানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সময় যত গড়াচ্ছে, স্বজনদের উৎকণ্ঠাও তত বাড়ছে।



