রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

আকাশেই গতিপথ বদলাতে পারে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র: আইআরজিসি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১২, ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

আকাশেই গতিপথ বদলাতে পারে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র: আইআরজিসি

সংগৃহীত

ইরানের তৈরি নতুন প্রজন্মের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়নের মাঝপথেই নিজেদের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস। এই সক্ষমতার কারণে এসব ক্ষেপণাস্ত্র শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারবে বলেও দাবি করা হয়েছে।

সোমবার উত্তরাঞ্চলীয় কাজভিন শহরে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র হোসেইন মোহাবি এসব তথ্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।

মোহাবি বলেন, আগের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট একটি স্থান থেকে উৎক্ষেপণের পর পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যেত। তবে নতুন প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠেছে। আকাশে থাকার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলোর দিক ও গতিপথ পরিবর্তন করা সম্ভব বলে দাবি করেন তিনি।

ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, নতুন সক্ষমতার ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে যে পূর্বানুমান করে, সেটি অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হতে পারে। ফলে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়বে বলে মনে করছে ইরান।

সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সময় এই ধরনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানো হয়েছে বলেও দাবি করেন মোহাবি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের যোগাযোগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাঠামোকে লক্ষ্য করার ক্ষেত্রেও এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে।

মোহাবির বক্তব্যে আরও বলা হয়, ইরানের আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির লক্ষ্য শুধু শত্রুপক্ষের ভবন বা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস করা নয়। বরং প্রতিপক্ষের সামরিক পরিচালনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো এবং প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের কার্যক্ষমতা দুর্বল করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

তবে ইরানের এই সক্ষমতার দাবির বিষয়ে স্বাধীন কোনো সামরিক সূত্রের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর প্রকৃত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আকাশে গতিপথ পরিবর্তনের পরিধি এবং সাম্প্রতিক সংঘাতে এর ব্যবহার কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে।

ইরানের সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে এমন দাবি দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!