প্রকাশিত: আগস্ট ১৩, ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলন চলাকালে ট্রাম্প যে হোটেলে অবস্থান করছিলেন, তার নির্দিষ্ট অবস্থান ও হোটেলের কোন তলায় তিনি ছিলেন—সেই তথ্য ইরানি এজেন্টদের হাতে পৌঁছে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ট্রাম্পকে বহনকারী উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য প্রস্তুতির কথাও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আসে।
সম্মেলনস্থলের কাছাকাছি কাঁধে বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে সন্দেহজনক একজন ব্যক্তির উপস্থিতির তথ্যও পাওয়া যায়। এসব কারণে ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বেড়ে যায়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রচলিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। প্রথমে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে তাঁর নির্ধারিত সরকারি উড়োজাহাজে ওঠানো হয়। এরপর গোপনে তাঁকে একটি খাদ্য সরবরাহের বাক্সে আড়াল করে বিমানবন্দর থেকে বের করে অন্য একটি সামরিক উড়োজাহাজে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের নির্ধারিত সরকারি উড়োজাহাজটি আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়। ওই উড়োজাহাজে থাকা কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা, কর্মী ও সাংবাদিকদেরও কথিত গোপন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়নি। ফলে সেটি এক ধরনের বিভ্রান্তিমূলক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
পরে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যে পৌঁছে আবার ওই উড়োজাহাজে যোগ দেন। এতে বাইরে থেকে এমনটাই মনে হয় যে, তিনি শুরু থেকেই একই উড়োজাহাজে করে সফর করেছেন।
তবে এই কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের মতে, অন্য যাত্রীদের অজান্তে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাখা নিয়ে নিরাপত্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করেছেন এবং উড়োজাহাজে থাকা অন্য যাত্রীরা গুরুতর কোনো ঝুঁকির মধ্যে ছিলেন না।



