রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

রেকর্ড গরমে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া, মাটির নিচেই ‘সিদ্ধ’ হয়ে যাচ্ছে আলু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৪, ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

রেকর্ড গরমে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া, মাটির নিচেই ‘সিদ্ধ’ হয়ে যাচ্ছে আলু

প্রতীকী ছবি

দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা প্রচণ্ড গরমে মাঠের ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও জমি থেকে তোলার আগেই আলু নরম হয়ে পচে যাচ্ছে, আবার কোথাও বাঁধাকপি ও ফলনশীল গাছ অতিরিক্ত তাপে নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা।

দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য প্রদেশ গ্যাংওনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী ইয়াংগু এলাকায় আলুচাষিরা জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগেও জমিগুলো স্বাভাবিক দেখাচ্ছিল। কিন্তু আলু তোলার সময় গিয়ে দেখা যায়, মাটির নিচের কন্দগুলো অতিরিক্ত তাপে নরম হয়ে গেছে। অনেক আলু এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে সেগুলো জমি থেকেই সিদ্ধ হয়ে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করা স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, তাদের জীবনে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। শুধু আলু নয়, কয়েক হাজার পিয়ং জমিতে চাষ করা বাঁধাকপিও প্রচণ্ড গরমে নষ্ট হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় সময়মতো ফসল না তোলায় অনেক কৃষক এখন বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

ফলের বাগানেও তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে। অতিরিক্ত সূর্যের তাপে আপেলের খোসা পুড়ে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। অনেক পিচফল ফেটে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ দীর্ঘ হলে ফলের উৎপাদন আরও কমে যেতে পারে।

দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যায় তাপমাত্রার রেকর্ড থেকেও। গত ২ আগস্ট ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা দেশটিতে আধুনিক পদ্ধতিতে তাপমাত্রা পরিমাপ শুরুর পর সর্বোচ্চ বলে জানানো হয়েছে।

তীব্র গরমে মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু ও মাছেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাপপ্রবাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মারা গেছে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ও খামারে পালন করা মাছও।

পরিস্থিতি কৃষকদের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরে না থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অনেক কৃষক মাঠে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের একজনের ভাষ্য, পাকা ফল নষ্ট হয়ে গেলে তা আর পরে উদ্ধার করার সুযোগ থাকে না।

দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, এমন ভয়াবহ আবহাওয়া আগে কখনো দেখা যায়নি। তার মতে, চরম আবহাওয়া ধীরে ধীরে নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্যোগ মোকাবিলার বিদ্যমান ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

কৃষকদের আশঙ্কা, ফসলের ব্যাপক ক্ষতির প্রভাব সামনে খাদ্যবাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে শরৎকালীন চুসক উৎসবকে সামনে রেখে ফল ও সবজির সরবরাহ কমে গেলে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আলুর মতো তাপসংবেদনশীল ফসলের জন্য ভবিষ্যতে উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল জাত ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও গবেষণায় উঠে এসেছে। একই সঙ্গে আগেভাগে চাষাবাদ ও কৃষিপদ্ধতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষতি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এই পরিস্থিতি শুধু একটি দেশের কৃষি সংকট নয়; এশিয়াজুড়ে বাড়তে থাকা চরম তাপমাত্রার একটি বড় উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক জলবায়ু তথ্য বলছে, এশিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার দ্রুত বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও জনজীবনের ওপর আরও বড় চাপ তৈরি করতে পারে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!