রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ১৫, ২০২৬, ১২:০২ পিএম

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা

সংগৃহীত

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোরে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। শক্তিশালী এই কম্পনের পর দেশটির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য সুনামির বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটের দিকে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। শক্তিশালী কম্পনের পরপরই ওই অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভূমিকম্পের পর অন্তত তিনটি পরবর্তী কম্পনও শনাক্ত করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা জানিয়েছে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে সমুদ্রের পানিতে অস্বাভাবিক পরিবর্তন তৈরি হলে সুনামির ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এ কারণে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সমুদ্রের কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফ্লোরেস দ্বীপ ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের পর উদ্ধার ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামি নিয়ে আশপাশের দেশগুলোর মধ্যেও সতর্কতা তৈরি হয়। তবে অস্ট্রেলিয়ার সুনামি সতর্কীকরণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের কারণে দেশটির মূল ভূখণ্ড, দ্বীপাঞ্চল বা অন্যান্য এলাকায় সুনামির আশঙ্কা নেই।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ায় এমন শক্তিশালী কম্পন নতুন নয়। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূকম্পন বলয়ের একটি সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশেষ করে সমুদ্রের নিচে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে সুনামির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের পর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তাকে। সম্ভাব্য সুনামির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরবর্তী কম্পন ও সমুদ্রের অবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে ভূমিকম্পের প্রকৃত প্রভাব, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে। শক্তিশালী কম্পনের কারণে আতঙ্কিত না হয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!