প্রকাশিত: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ০৮:২০ এএম
ইন্দোনেশিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির পূর্বাঞ্চলে শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বহু ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বেশ কয়েকটি ভবন পুরোপুরি ধসে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল দ্রুত অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারাইয়ান্তো জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৪৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের বড় একটি অংশ সিক্কা, মানাগ্গারাই ও পূর্ব মানাগ্গারাই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আহত অবস্থায় অন্তত ৫০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভূমিকম্পে ১৫৭টি বাড়ি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। আরও প্রায় ২০০টি বাড়ি বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রথম ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়। বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সমুদ্রে এমন কোনো অস্বাভাবিক ঢেউ শনাক্ত হয়নি, যা উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।
এদিকে ভোরের শক্তিশালী ভূমিকম্পের কয়েক ঘণ্টা পরই উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ৬ দশমিক ৪ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। পরপর দুটি ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



