প্রকাশিত: আগস্ট ১৭, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে প্রায় সাত শতাব্দী আগে নির্মিত আসলানহানে মসজিদ। আঙ্কারা দুর্গের পাশে অবস্থিত এই প্রাচীন মসজিদটি তুরস্কের সেলজুক যুগের স্থাপত্য ও ইসলামী ঐতিহ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ দিকে, ১২৯০ খ্রিস্টাব্দে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। রুমের সেলজুক শাসক দ্বিতীয় মেসুদের শাসনামলে এটি নির্মিত হয় বলে ঐতিহাসিক তথ্য থেকে জানা যায়। মসজিদটির সঙ্গে আহি সম্প্রদায়ের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১৩৩০ খ্রিস্টাব্দে আহি নেতা শরাফউদ্দিন মসজিদটির সংস্কার করেন। তাঁর নামের সঙ্গে মিলিয়ে স্থাপনাটি আহি শরাফউদ্দিন মসজিদ নামেও পরিচিতি পায়।
মসজিদটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর কাঠের নির্মাণশৈলী। প্রায় ৪০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা ভবনের ছাদ ২৪টি বিশাল কাঠের স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। পাথরের বিশাল গম্বুজের পরিবর্তে কাঠের ছাদ ও স্তম্ভের ব্যবহার এটিকে তৎকালীন স্থাপত্যের একটি অনন্য উদাহরণে পরিণত করেছে।
মসজিদের অভ্যন্তরে সেলজুক শিল্পরীতির সুন্দর নিদর্শন রয়েছে। বিশেষ করে টালির কারুকাজে সজ্জিত মিহরাব দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভবনটিতে রয়েছে তিনটি প্রবেশদ্বার ও ১২টি জানালা। নির্মাণকাজে আগের বিভিন্ন স্থাপনা থেকে সংগৃহীত উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া যায়।
সময়ের সঙ্গে মসজিদটির বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধারকাজের মাধ্যমে এর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
‘আসলানহানে’ শব্দের অর্থ ‘সিংহের ঘর’। মসজিদের সামনে আহি শরাফউদ্দিনের সমাধিও রয়েছে। দীর্ঘ ইতিহাস, কাঠের স্তম্ভ, সেলজুক কারুকাজ ও ঐতিহ্যবাহী নির্মাণশৈলীর কারণে আসলানহানে মসজিদ আজও আঙ্কারার অতীতের এক জীবন্ত স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।



