প্রকাশিত: আগস্ট ১৯, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ইরান যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও উত্তপ্ত এলাকা হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের ধরন বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি থাকলেও সাম্প্রতিক জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, ইরানের প্রভাব আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়া ৮০ শতাংশের বেশি জাহাজ ওমানের উপকূলসংলগ্ন বিকল্প পথ ব্যবহার করেছে। এই পথটি আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত হলেও এতদিন ইরান এ পথে জাহাজ চলাচলের বিরোধিতা করে আসছিল। বর্তমানে ঝুঁকি এড়াতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ওই পথকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
এক মাস আগেও ওমানের উপকূলীয় পথে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ইরানের হামলার আশঙ্কায় এখন জাহাজগুলো বিকল্প পথে চলাচল করছে। অনেক জাহাজ আবার নিরাপদে চলাচলের জন্য মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করছে।
জাহাজ চলাচলের এই পরিবর্তন ইরানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অতিরিক্ত শুল্ক আদায়ের যে পরিকল্পনা তেহরান করেছিল, অধিকাংশ জাহাজ বিকল্প পথে চলে যাওয়ায় সেটি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সমুদ্রপথের ওপর প্রভাব বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রেও ইরান চাপে পড়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদক দেশগুলোও পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন কৌশল নিয়েছে। কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী বড় জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ওমান উপসাগরের তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় অপেক্ষমাণ অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তর করছে।
নিরাপত্তাঝুঁকি আরও বাড়ায় অনেক তেলবাহী জাহাজ তাদের অবস্থান শনাক্ত করার ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখছে। এর ফলে সমুদ্রপথে এমন কিছু জাহাজের চলাচল তৈরি হয়েছে, যেগুলোর অবস্থান সরাসরি শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এতে প্রতিদিন কত পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে, তার সঠিক হিসাব করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতিকে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলা এখনও ঠিক হবে না। কারণ ইরানের হাতে এই সমুদ্রপথে হামলা চালানোর সক্ষমতা রয়েছে এবং যুদ্ধের আগের তুলনায় তেল পরিবহনও এখনো কম।
অর্থাৎ, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একচ্ছত্র প্রভাব আগের তুলনায় কমলেও সমুদ্রপথকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলার ক্ষমতা দেশটির এখনো রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক বাণিজ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।



