রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে ইরাককে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২২, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম

ইরানের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে ইরাককে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ফাইল ছবি

ইরানের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য কমাতে ইরাকের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারির পর বাগদাদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইরানের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা এখন ইরাকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরাকের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ইরান থেকে আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কোনো কোনো সময়ে ইরানি গ্যাসের ওপর নির্ভর করেছে। ফলে সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেও ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন কয়েক হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ইরানের ওপর নির্ভরতা কমাতে ইরাক নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন, বিকল্প জ্বালানির উৎস তৈরি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সময় লাগবে। কারণ, ইরান থেকে প্রতি বছর বিপুল অর্থের গ্যাস আমদানি করে ইরাক।

শুধু ইরাক নয়, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সম্পর্ক থাকা আরও কয়েকটি দেশও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে পড়তে পারে। চীন ইরানের অন্যতম বড় অপরিশোধিত তেল ক্রেতা। তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ভারতের সঙ্গে ইরানের জ্বালানি বাণিজ্যও বিভিন্ন সময়ে বাধার মুখে পড়েছে। একই সময়ে ইরান ও রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় নিজেদের মধ্যে বিকল্প বাণিজ্যিক ব্যবস্থা জোরদার করছে।

ফলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ যত বাড়ছে, ততই দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য করা রাষ্ট্রগুলোর জন্যও নিজেদের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!