রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের রাজধানী তেহরানে সফর করছেন। চলতি বছরে এটি হবে তার তৃতীয় ইরান সফর। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ এগিয়ে নিতে এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সফরকালে আসিম মুনির ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তবে তার আলোচনার বিস্তারিত সূচি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সফরের আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে কয়েক দিনের ব্যবধানে দুই দফা টেলিফোনে কথা বলেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। এসব আলোচনায় পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক শান্তি এবং নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে আসছে। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পাকিস্তানের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, আঞ্চলিক বাণিজ্য, সমুদ্রপথ এবং মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত পাকিস্তানি নাগরিকদের বিষয়টি ইসলামাবাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আসিম মুনিরের এবারের সফরে ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর কর্মকাণ্ডও আলোচনায় আসতে পারে। সম্প্রতি বাব আল-মানদেব প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় পাকিস্তানি নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ইসলামাবাদ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফলে লোহিত সাগর ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়েও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাকিস্তানও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় বিষয়টি দেশটির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ তৈরি করতে পাকিস্তানের কিছুটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কারণ, ইসলামাবাদের সঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটন—উভয় পক্ষেরই যোগাযোগ রয়েছে। তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সক্ষমতা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, পাকিস্তান যোগাযোগের একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে; আবার অন্যদের মতে, রাজনৈতিক মধ্যস্থতায় কাতারের ভূমিকা এখনো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আসিম মুনিরের সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও সামরিক পদে পরিবর্তন এসেছে। ফলে নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক যোগাযোগ জোরদার করাও সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর আগের কূটনৈতিক উদ্যোগগুলোও বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর আরও অর্থনৈতিক চাপ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আসিম মুনিরের তেহরান সফর দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের নতুন কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তবে সফর থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বড় সমঝোতা হবে—এমন প্রত্যাশা না থাকলেও যোগাযোগের পথ সচল রাখা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ হিসেবে সফরটি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, ইয়েমেনের সংঘাত এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা নিয়ে পাকিস্তান কী ধরনের বার্তা দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!