রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ব্রিটেনের সমর্থন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১১:১৭ এএম

ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ব্রিটেনের সমর্থন

ফাইল ছবি

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া নতুন পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে ব্রিটেন। তবে একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ খোলা রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে দেশটি। ব্রিটিশ সরকারের এই অবস্থানকে ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখার পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ ধরে রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ ট্রেজারি মন্ত্রী জন হিলি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, ইরান যেন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে ব্রিটেন দৃঢ়ভাবে কাজ করবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম ও তেল খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের অনুমতি দেওয়া কয়েকটি সাধারণ ছাড়ও বাতিল করা হয়েছে।

ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কথিত ছায়া নৌবহরের সঙ্গেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধে হরমুজ প্রণালি গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর আগে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পর কিছু সময়ের জন্য নৌপথটিতে চলাচল স্বাভাবিক হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সামরিক উত্তেজনা ফের বাড়ায় পরিস্থিতি আবারও জটিল হয়ে ওঠে।

ইরান দাবি করছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে রয়েছে। বিপরীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ খোলা ও সচল রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপে ব্রিটেনের সমর্থন দুই দেশের সমন্বিত অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। তবে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার কথা জানিয়ে ব্রিটেন একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আলোচনার সুযোগও ধরে রাখতে চাইছে।

মাতৃভূমির খবর

Advertisement
Advertisement
Link copied!